সৎ মায়ের নির্যাতনে কবরের পাশে শিশুর কান্না

কুমিল্লার লালমাইয়ে সৎ মায়ের নির্যাতনের অভিযোগে এক কিশোরীর মায়ের কবরের পাশে বসে কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। হৃদয়বিদারক ওই দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পরপরই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে লালমাই উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত সৎ মা ও শিশুটিকে ডাকা হয়। সেখানে সৎ মা আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছামিয়া আক্তার নামের এই কিশোরীর মা প্রায় চার বছর আগে মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, কিশোরীকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি সম্প্রতি তাকে টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি পরিবারে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীটি তার মায়ের কবরের পাশে বসে বিলাপ করছে। মায়ের উদ্দেশে তার আকুতি “আম্মু, আমাকে সঙ্গে নিয়ে যাও” দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নেটিজেনরা। মুহূর্তেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ইউএনও জানান, অভিযুক্ত সৎ মাকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয় দীর্ঘমেয়াদে শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি ভাইরাল ভিডিও যেন তুলে ধরেছে এক শিশুর অসহায়ত্ব আর সেই সঙ্গে সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্বের কথাও আবার মনে করিয়ে দিয়েছে।

ছাত্র কন্ঠ/তৌফিক
নবীনতর পূর্বতন