জীবনযুদ্ধে পরাজিত বৃদ্ধের পাশে ইউএনও

 নিজস্ব সংবাদদাতা

জীবনসংগ্রামের শেষ প্রান্তে এসে এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামের বৃদ্ধ শামসুল ইসলাম।
তিন দৃষ্টিহীন সন্তান ও পঙ্গু স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটছে। 
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বৃহস্পতিবার বৃদ্ধ শামসুল ইসলামের পরিবারকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা করেন এবং ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, শামসুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং পঙ্গু স্ত্রী সালেহা বেগম। এর মধ্যেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় মেজো মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অন্ধ সন্তানদের ভবিষ্যৎ, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা এবং সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বৃদ্ধ শামসুল ইসলাম। পরিবারের এই করুণ অবস্থার খবর স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের বাড়িতে ছুটে যান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চক্ষু বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মুহা. নাঈম সিদ্দিকী। তিনি দৃষ্টিহীন সন্তানদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন।

পরিবারটির অভাব দেখে তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেন ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি শামসুল ইসলামের হাতে নগদ অর্থ ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়া সালেহা বেগমের চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেন।

ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, “খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাদের করুণ অবস্থা দেখে আমি মর্মাহত। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, পরিবারটিকে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
3/related/default