বিচার চান না রামিসার বাবা

নিজস্ব প্রতিনিধি

 


সাত বছরের রামিসাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা শুনলে যে কেউ শিউরে উঠবেন। কিন্তু আদরের কন্যা হত্যার বিচার চান না বাবা। বিচার প্রসঙ্গ তুলতেই হাউমাউ করে কেঁদে বললেন, ‘আমি কিছুই চাই না, এই বিচার আপনারা করতে পারবেন না। আপনাদের এ ধরনের কোনো রেকর্ড নাই। আপনারা পারবেন না। আমার মেয়েও ফিরে আসবে না।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম, সবখানেই এখন রামিসার জন্য শোক। নিজেদের ভাড়া বাসার পাশের ফ্ল্যাটে যাকে ধর্ষণের চেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত দেননি প্রতিবেশী সোহেল রানা। স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নিয়ে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন। আর সেজন্য মরদেহ কেটে টুকরোও করতে শুরু করেছিলেন। এসব কথা নিজেই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার সোহেল ও স্বপ্না।


আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বুধবার রামিসাকে দাফন করা হয়েছে গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে। আদরের মেয়েকে হারিয়ে দিশাহারা বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। সামনে গণমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর সবটুকু ক্ষোভ যেন উগরে দিলেন। বললেন, ‘আপনারা বিচার করতে পারবেন? পারবেন না। আপনারা কোনো এক্সামপল দাঁড়া করাতে পারবেন? পারবেন না। আমার থেকে স্ট্যাম্প নিবেন? স্ট্যাম্পে লিখিত নিবেন? পারবেন না। আপনারা পারবেন না। এইটা বড়জোর ১৫ দিন। এরপর আরও কোনো বড় ঘটনা ঘটবে, এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। শেষ, শেষ এইটা। আমি তো দেখতেসি। আমার বয়স ৫৫ বছর।’


কী হয়েছিল ছোট্ট রামিসার সঙ্গে, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তা জানিয়েছেন অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।


রামিসা হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, রামিসা সকালের নাশতা শেষে বাসা থেকে বের হয়ে নিজ অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যেই খেলছিল। সে সময় সোহেল রানা কৌশলে রামিসাকে বাসায় নিয়ে যান। নেশাগ্রস্ত সোহেল ধর্ষণের চেষ্টা করেন রামিসাকে। ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার চেষ্টায় সোহেলকে সহায়তা করেন স্বপ্না। তবে গুমের চেষ্টায় ব্যর্থ হন তারা। পরে বাসার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।

3/related/default