নতুন বাংলা - একটি বিপ্লব




বাংলাই একমাত্র ভাষা যা রক্তের বিনিময়ে পাওয়া, যা বাঙালিদের জন্য গর্বের। কিন্তু আমরা একে উন্নত করার জন্য কী করেছি? দিন দিন বাংলা কঠিন হচ্ছে বাঙালিদের কাছে, যা শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

​বাংলা বর্ণমালায় বর্ণের সংখ্যা ৫০টি যেখানে সম্পূর্ণ পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেওয়া কোনো ভাষারই বর্ণমালার সংখ্যা ৩০ এর উপরে নয়। ইংরেজিতে বর্ণের সংখ্যা ২৬, আরবিতে ২৯, স্প্যানিশে ২৭ ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বর্ণের সংখ্যা বেশি।

​বাংলা স্বরবর্ণের সংখ্যা ১১টি, যেখানে ৫ টিই অপ্রয়োজনীয়। ঈ, ঊ, ঋ, ঐ, ঔ। এখানে ঋ ব্যতীত সবগুলোই অপ্রয়োজনীয় এবং ‘ঋ’-এর পরিবর্তে অতি সহজে ‘রি’ ব্যবহৃত হতে পারে। বর্ণসমূহ অপ্রয়োজনীয় হওয়ার সাথে সাথে তাদের কার (সংক্ষিপ্ত রূপ) অপ্রয়োজনীয়। কারগুলো: ী, ূ,  ৃ, ৈ, ৌ। এখানে ঐ এর পরিবর্তে অই এবং ঔ এর পরিবর্তে অউ ব্যবহৃত হতে পারে। ঈ এবং ঊ বাংলা ভাষায় নিষ্প্রয়োজন। অর্থাৎ বাংলা ভাষার স্বরবর্ণের সংখ্যা হবে ৬।

​বাংলা ভাষার ব্যঞ্জন বর্ণের সংখ্যা ৩৯টি। এখানে পুনরাবৃত্তি বেশি এবং একাধিক বর্ণ অপ্রয়োজনীয়। এগুলো হলো: ঘ, ঝ, ঞ, ঢ, ণ, ধ, ভ, শ, ষ, ৎ, ং, ঃ, ঁ। এখানে সকল বর্ণই পুনরাবৃত্তি, অর্থাৎ নিষ্প্রয়োজন। শেষের ৪টি বর্ণ ৎ, ং, ঃ, ঁ সর্বাধিক অপ্রয়োজনীয়। ‘ঞ’ বর্ণটি বাংলায় দূরবীন দিয়ে খুঁজলেও যুক্তবর্ণ ছাড়া খুব বেশি ব্যবহার পাওয়া যাবে না। এবং যুক্তবর্ণ নিয়ে একটু নিচেই আলোচনা আছে। এখন বাংলায় ব্যঞ্জন বর্ণের সংখ্যা হয় ২৫।

​অর্থাৎ অতি সহজে বাংলার বর্ণমালায় বর্ণের সংখ্যা ৫০ হতে কমিয়ে ৩১(৬+২৫) এ নিয়ে আসা যায়। এটি শুধুমাত্র বাংলাকে সহজ করবে না বরং বাংলা বিশ্বের কাছে নতুন দাম পাবে।

সমজাতীয় শব্দের(বানানের দিক হতে) জন্যও, আমরা ইংরেজির মতো প্রসঙ্গ ব্যবহার করতে পারি। যেমন: 'bank' অর্থ নদীর পাড় বা টাকা রাখার জায়গা হয় প্রসঙ্গ বা বাক্যে ব্যবহারে ইংরেজিতে। 

​বাংলায় যুক্তবর্ণ অন্য আরেকটি সমস্যা। একে অতি সহজে বাংলা হতে বাদ দেওয়া যায়। যেমন: ‘বিজ্ঞানকে’ আমরা লিখতে পারি ‘বিগগান’ হিসেবে এবং এটি সকল যুক্তবর্ণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। অর্থাৎ যুক্তবর্ণ অপ্রয়োজনীয়।

​নতুনভাবে ৩১ বর্ণ দিয়ে এবং যুক্তবর্ণ ছাড়া লিখতে অদ্ভুত লাগতে পারে কিন্তু এটা আগের তুলনায় সহজ এবং অধিক ব্যবহারিক। এর মাধ্যমে বিশ্বের কাছে সহজে তুলে ধরা যাবে বাংলাকে এবং প্রোগ্রামিং ও এ.আই তে সহজে বাংলা ব্যবহার করা যেতে পারবে। যা অতি প্রয়োজনীয়।

​এ পদ্ধতি অদ্ভুত লাগলেও এর একমাত্র কারণ আমরা পূর্বের পদ্ধতির সাথে অধিক পরিচিত। ব্যবহার এবং সময়ের সাথে এটিই হতে পারে বাংলার যোগ্য সম্মান।
নবীনতর পূর্বতন