জ্বালানি সংকটের এই সময়ে মোবাইল ফোন সেবা চালু রাখার পথ খুঁজতে অপারেটর এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে টাওয়ার, ডেটাসেন্টারসহ মোবাইল সেবার অবাকাঠামোগুলো সচল রাখতে জেনারেটেরর ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে জ্বালানি তেলের সংকট জেনারেটর চালু রাখার পথও কঠিন করে তুলেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে যে কোনো সময় দেশের মোবাইল সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। বিদ্যুৎ পাওয়া নিশ্চিত করতে টাওয়ার কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, তাদের যেন ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটরদের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিটিআরসি।
টেলিকম অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পিজিসিবি, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো এবং টেলিকম সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে আরেকটি যৌথ সভা করবেন বিটিআরসি কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার বিটিআরসির এক বার্তায় বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগ সেবা নিশ্চিত করতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডেটা সেন্টার ও কোর নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও ‘লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ’ সরবরাহ করতে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিটিআরসি।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে গত ১২ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির গুরুত্ব বিবেচনায় ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সকল জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে।
এছাড়া, মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর জ্বালানি পরিবহন এবং টাওয়ার সাইটগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে গত ২০ এপ্রিল বিটিআরসি থেকে আবারও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
